জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য কি?

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্যগুলি নিম্নরূপ:

১. জোটবিরোধী অবস্থান:
শীতল যুদ্ধের সময় মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ব্লক (ন্যাটো) এবং সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন পূর্ব ব্লক (ওয়ারশ চুক্তি) – এই দুটি সামরিক-রাজনৈতিক জোটের কোনোটির সঙ্গেই সম্পৃক্ত না হওয়া।

২. স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি:
সদস্য রাষ্ট্রগুলির স্বাধীন ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার রক্ষা করা এবং বৃহৎ শক্তির প্রভাব বা হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকা।

৩. বিশ্ব শান্তি ও নিরস্ত্রীকরণ:
আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রচার এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণসহ সর্বাত্মক নিরস্ত্রীকরণের জন্য কাজ করা।

৪. উপনিবেশবাদ ও বর্ণবৈষম্যের বিরোধিতা:
ঔপনিবেশিক শাসন, বর্ণবৈষম্য (যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাপারথেইড) এবং বৈদেশিক দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো।

৫. আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার:
উত্তর-দক্ষিণ বিভাজন কাটিয়ে উন্নয়নশীল বিশ্বের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা, ন্যায্য বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক কলোনিয়ালিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করা।

৬. জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিকতাকে শক্তিশালী করা:
জাতিসংঘের ভূমিকা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বহুপাক্ষিক কূটনীতিকে উৎসাহিত করা।

৭. বৈশ্বিক দক্ষিণের সমর্থন:
এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের মধ্যে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

সংক্ষেপে, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের মৌলিক লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সকল জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সমমর্যাদা রক্ষিত হবে এবং কোনো দেশই বৃহৎ শক্তির প্রভাব বলয়ের অধীন হবে না। শীতল যুদ্ধ শেষ হলেও আন্তর্জাতিক অসমতা, নিরাপত্তাহীনতা ও একপক্ষীয়তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে NAM-এর এই লক্ষ্যগুলি এখনও প্রাসঙ্গিক।

Related Q&A: