জোট নিরপেক্ষ নীতি হলো একটি বৈদেশিক নীতির আদর্শ বা নীতিমালা, যেখানে কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শীতল যুদ্ধের সময় গঠিত দুটি প্রধান শক্তিব্লক—সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন পূর্ব ব্লক ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ব্লক—এর কোনোটির সঙ্গেই সামরিক ও রাজনৈতিক জোটে যোগ দেয় না।
জোট নিরপেক্ষ নীতির মূল লক্ষ্য ও বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. জোটে যোগ না দেওয়া: শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক জোট (যেমন: ন্যাটো, ওয়ারশ চুক্তি) থেকে স্বাধীন থাকা।
২. স্বাধীন বৈদেশিক নীতি: দেশের জাতীয় স্বার্থ ও নীতির ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
৩. শান্তি ও নিরাপত্তা: বিশ্বশান্তি, নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখা।
৪. সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা: ঔপনিবেশিকতা ও আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করা।
৫. সকলের সাথে বন্ধুত্ব: যেকোনো দেশ বা ব্লকের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে উভয় পক্ষের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা গ্রহণ করা।
উদাহরণ: ভারত, যুগোস্লাভিয়া, মিশর, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ জোট নিরপেক্ষ নীতির অন্যতম প্রবক্তা ও অনুসারী ছিল। এই দেশগুলো জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। শীতল যুদ্ধের পরিস্থিতিতেও তারা তাদের স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখেছিল।
সারসংক্ষেপে, জোট নিরপেক্ষ নীতি হলো একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি, যা যুদ্ধ বা শক্তিব্লকের দ্বন্দ্বে জড়ানো থেকে দেশকে বিরত রাখে এবং বৈশ্বিক শান্তি ও সহযোগিতার পক্ষে কাজ করে।





